পাখার সাথে ঝুলে গতকাল বুধবার রাতে আত্মহত্যা করেছেন মা পম্পী মালাকার।



 

 দিয়ার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। খেলছে বাড়ির উঠানে। অপেক্ষায় রয়েছে মা কখন আসবে। পাশে ১০ বছর বয়সী ভাইয়া সুন্দর দাদীর সঙ্গে আঙিনায় মনমরা হয়ে বসে আছে। নাম জিজ্ঞেস করতেই ছোট মেয়েটি পূর্বেই বলে উঠল দিয়া মালাকার ওর নাম। এ টাইম অনুপম মালাকার বলা হয় উঠল, মা আর আসবে না, বাবাও বাড়িতে নেই। 


আরও পড়ুুন

১.শান্তি রক্ষার মিশনে বাংলাদেশি সেনা নিহত।


অপূর্ব মালাকারের এ অসহায়ত্বের রিজন খুঁজতে গিয়ে মনটা খুব ভালো না হয়ে গেল এ প্রতিনিধির। ওই দুই শিশুর বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাখার সাথে ঝুলে গতকাল বুধবার রাতে আত্মহত্যা করেছেন তাদের মা পম্পী মালাকার (২৯)। আর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় কারাগারে তাদের বাপ লিটন মালাকার (৪৭)। 


রাঙ্গুনিয়া থানার পারুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সাহাব্দীনগর গ্রামের কেরানি বাড়ির প্রয়াত রাজেন্দ্র মালাকারের পোলা লিটন। তাঁকে আজ দুপুরের দিকে আদালতের দ্বারা কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর প্রথমে লিটনের গৃহিণী পম্পীর লাশ ভোরে উপজেলায় নিয়ে আসা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ আজ দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল মহাবিদ্যালয় ডাক্তারখানার মর্গে পাঠানো হয়। 


  1. বেলা তিনটার দিকে পশ্চিম সাহাব্দীনগর গ্রামে গিয়ে কথা হয় লিটনের মা পটোরানী মালাকারের সঙ্গে। ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে উনি বলেন, ‘কাল (বুধবার) রাতে ঘুমানোর প্রথমে রাত ৯টার দিকে লিটন ও তাঁর বিবি পম্পীর মধ্যে অল্প কথা–কাটাকাটি হয়। পম্পীর মা বকুল রানীর সাথে ফোনে আমার কথা হচ্ছিল তখন। ঝগড়ার ব্যাপারটা বকুল রানীকে জানালে তিনি মেয়ের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। অথচ ভোরে কথা বলবে বলা হয়ে থাকে শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে পম্পী। আমার ছেলে লিটন কামরার বারান্দায় সোফায় ঘুমিয়ে পড়ে। আজ (বৃহস্পতিবার) ভোররাত চারটার দিকে দুই সন্তান ফ্যানের সঙ্গে মাতার ঝুলন্ত অটল দেহ দেখে কক্ষের সবাইকে ডাকাডাকি করে। পরে ঘরের দরজা ভেঙে শয়নকক্ষে ঢোকে। অথচ ততক্ষণে পম্পী আর বেঁচে ছিল না।’ 


  • পম্পীর বাবার বাড়ি রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াদাম এলাকায়। সকালের দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় গিয়ে লক্ষ্য যায়, মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে উপজেলায় এসে পম্পীর মা বকুল রানী চৌধুরী আহাজারি করছেন। মুর্ছা যাচ্ছেন বারবার। পম্পীর বাবা মন্টু চৌধুরীও শোকাহত। 
  • ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১১ বছর প্রথমে লিটনের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান আছে। কাতারপ্রবাসী জামাতা লিটন বিদেশ থাকাবস্থায় আমার মেয়ের দ্বারা নানারকম জনের কাছ থেকে টাকা তীর নিয়ে পাকা একতলা আবাস সৃষ্টি করে। ১০ মাস প্রথমে কাতার হতে দেশে ফিরে আসে লিটন। আসার পর থেকে পাওনাদাররা টাকা ফেরত পেতে চাপ তৈরি করে। আমার ভদ্র মহিলা লিটনকে টাকা পরিশোধের জন্য বললে সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। এছাড়া সংসারের ছোটখাটো ব্যপার নিয়ে আমার মেয়েকে প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। আমার মেয়ে জামাইয়ের নিপীড়ন সইতে না পেরে পাঁচ মাস আগে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের অনুরোধে আমি আমার মেয়েকে লিটনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিই।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ