জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড-নাম।

 বাংলাদেশ সংবাদ- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এই কে আব্দুল মোমেন আজ বলেছেন, জাতিসংঘে (ইউএন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব জাতির ভিতরে টেকসই কমফোর্ট ও অন্যকারোর প্রতি শ্রদ্ধার মানসিকতা সৃষ্টি করা সম্ভব। 

তিনি বলেন, নানারকম দেশে টেকসই আরাম অর্জনের জন্য উনি (শেখ হাসিনা) জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ নামে অবগত একটি প্রস্তাবনা করেন, যেখানে বর্ণ, গোষ্ঠি, বংশ পরিচয়, গোত্র বা আইন নির্বিশেষে অন্যদের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধার মানসিকতা প্রস্তুত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদি আমরা এই ধরনের মানসিকতা প্রস্তুত করতে পারি তবে বিশ্বব্যাপী টেকসই স্বাচ্ছন্দ অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের উদ্বোধনী সমিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। 
মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর উপায় অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিবেশীদের সাথে স্থল এবং সমুদ্র সীমান্ত নির্ধারণ ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় পানির হিস্য ভাগাভাগির মত বাংলাদেশের বেশিরভাগ তাৎপর্যপূর্ণ প্রবলেম সমাধান করেছেন। 
তিনি (শেখ হাসিনা) রাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার পুরুষ ও মানবীকে বিদেশে পর্যাপ্ত মিশনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করার পারমিশন দিয়েছেন। উনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড-নাম। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী- উদযাপনের ভাগ হিসেবে দুই দিনের সম্মেলনের আয়োজন করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 
বিশ্ব আরাম সম্মেলনের অয়োজক কমিটির সভাপতি এবং জাতীয় সংসদ (জেএস) স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ উদ্বোধনী মিটিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে কথন দেন। 

আরও পড়ুন 


  1. মোমেন বলেন, শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন পরোপকারী সমাজকর্মী। তাঁর জীবনের উৎকৃষ্ট লক্ষ্য ছিল মানুষের কল্যাণ শিওর করা। তাঁর সারাজীবন সংগ্রাম ছিল শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। 
  2. ১৯৪৮ হতে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু অ্যাকটিভ অংশগ্রহণ তাকে বাঙালী জাতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও অবিসংবাদিত নেতাতে রূপান্তরিত করেছিল। মন্ত্রী বলেন, তাকে (বঙ্গবন্ধু) তাঁর জনগণ ভালোবেসে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছে যার অর্থ বাংলার বন্ধু। 
  3. মোমেন ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জাতির জন্মদাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘শান্তির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ পণ এ উপলব্ধির জন্য যে কেবলমাত্র মাত্র শান্তির পরিবেশই আমাদের দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ, নিরক্ষরতা ও বেকারত্বের প্রকোপ মোকাবেলায় আমাদের সমস্ত শক্তি ও সম্পদকে একত্রিত এবং মনোনিবেশ করতে যোগ্য করবে।’ 
  4. তিনি বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করেন, ‘মানবজাতির বেঁচে থাকার জন্য আরাম অপরিহার্য। এটি বিশ্বব্যাপী পুরুষ ও মহিলাদের গভীরতম আকাক্সক্ষার করে। তবে, সহ্য করার জন্য স্বাচ্ছন্দ অবশ্যই ন্যায়বিচারের ওপর কেন্দ্র করে হতে হবে।’ 
  5. বঙ্গবন্ধু বাসনা করেছিলেন যে বাংলাদেশ শান্তির দেশ হবে যা সারা দেশে শান্তির চর্চা ঝলমলে করবে। মন্ত্রী বলেন, এতে বিস্মিত হওয়ার কতিপয় নেই যে তিনি আমাদের পররাষ্ট্র নীতির প্রতিমূর্তি করেছেন, যাহার খাঁটি নিয়ম হলো ‘সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’। 
  6. দুর্ভাগ্যবশত, পৃথিবীর অনেক ভাগের লোক অত্যাচার, নিপীড়ন, নিন্দা এবং বঞ্চনার বিষ, সহিংসতা ও যুদ্ধের ভিতরে দিয়ে যাচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একা-একা সহিংসতা এবং নৃশংসতা সমাপ্ত করতে পারি না’। 
  7. রোহিঙ্গাদের উপর বা ফিলিস্তিনে যে সহিংসতা এবং নৃশংসতা চালানো হয়ে গিয়েছে তা মানবসৃষ্ট বলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু এগুলো মানবসৃষ্ট, তাই, আমার ১টি স্বপ্ন আছে, আপনাদের সক্রিয় সমর্থনে আমরা একদিন সহিংসতা, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের অবসান ঘটাতে পারি, কোন ছোট বাচ্চা ফেমেলি ছাড়া থাকবে না, কোন সৈনিক তার অস্ত্র তুলে আরেক ব্যক্তির জীবন নেবে না, সর্বনাশা বোমা ও ঘৃণ্য মন আশা করি ফ্রেন্ডশিপ ও শান্তির কুসুম মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হবে। 
  8. বিশ্বজুড়ে শান্তির মেসেজ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সকলকে এ অভিযানে যোগ দেওয়ার নিমন্ত্রণ জানিয়ে, মোমেন বলেন, ‘সারা দেশে ঘৃণা, অজ্ঞতা ও সহিংসতার বিষাক্ত মুছে করতে আমাদের এ অনুষ্ঠানে উঠে অংশীদারিত্ব এবং সাহায্যে একত্রে হাঁটতে হবে। আসুন কল্পনা দেখি এবং সবার জন্য একটি উন্নত জগতের স্বপ্ন দেখি। 
  9. অনুষ্ঠানে ছয়জন মেহমান বক্তা, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বন্যা কি মুন, অতীত তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট নোবেল জয়ী হোসে রামোস ওর্তা, রাজনীতিবিদ এবং ইন্ডিয়ার বেসামরিক আকাশযান চলাচল, রেল, বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু, মিশরের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরব লীগের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আমর মুসা, বিশ্ব ইসলামিক অর্থনৈতিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তান শ্রী দাতো সেরি সাইদ হামিদ আলবার ও জাতিসংঘের মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু এনডিরিটুও উদ্বোধনী মিটিংয়ে ভার্চুয়ালি এবং সশরীরে বলার যোগ্য রাখেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ