ভারতের ধনি গৌতম আদানির শেয়ার ৫ অংশ কমেছে আজ।

abirnews ভারতের শীর্ষ ধনিক গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি গ্রুপের মালিকানাধীন সাতটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারদর আজ ৫ শতাংশের অধিক কমেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিনডেনবার্গ রিসার্চের এক প্রতিবেদনের পর আদানি গ্রুপের শেয়ারের দর এক দিনেই এতটা পড়ে যায়। তাতে এক দিনেই গ্রুপটির বাজার মূলধন ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৮০ কোটি ডলার কমেছে। হিনডেনবার্গের প্রতিবেদনে হয়েছে, আদানি গ্রুপ স্টক এবং হিসাবের বিষয়ে জালিয়াতি করেছে। তাদের ভাষ্য, আদানি গ্রুপ ত্রুটি ইনফরমেশন কর্তৃক বাজারকে প্রভাবিত করেছে। এর দ্বারা তারা মার্কেটপ্লেসে নিজেদের শেয়ারের ভ্যালু বাড়িয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বলেছে, রিসার্চ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়ে গিয়েছে যে এক দশক ধরে আদানি গ্রুপ এ জালিয়াতি করে আসছে। হিনডেনবার্গ এ অভিযোগসংক্রান্ত সর্বমোট ৮৮টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তারা প্রার্থনা করছে, আদানি গ্রুপ এসব প্রশ্নের জবাব দেবে। তবে গৌতম আদানি মনে করেন, তাঁর কোম্পানির স্টকের মূল্যায়ন নির্ভুল আছে। আদানি গ্রুপ হিনডেনবার্গের এই প্রতিবেদনে সুবিশাল ধকল খেয়েছে বলা হয়ে থাকে জানিয়েছেন গ্রুপের উত্তম আর্থিক অফিসার জোগেসিন্দর সিং। এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্মিত হয়েছি, গতকাল মঙ্গলবার তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করল, অথচ আমাদের সাথে কথা বলল না। এমনকি যে তথ্য তারা পাবলিশ করেছে, তা যাচাই-বাছাইও করল না। এসব নালিশ ভিত্তিহীন।’ জোগেসিন্দর সিং এইরকম বলেন, এইরকম সময়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে বোঝা যায়, এর ফোকাস কী। কিছুদিনের মধ্যেই আদানি গ্রুপের অন্যটি কোম্পানির নিউ শেয়ার মার্কেটপ্লেসে প্রবল বৃষ্টিপাত কথা। এই সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোম্পানির সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অপচেষ্টা করছে হিনডেনবার্গ। আদানি এন্টারপ্রাইজ এফপিওর দ্বারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার থেকে ২৫০ কোটি ডলার তোলার প্রিপারেশন করছিল। এফপিও হচ্ছে এইরকম একটি প্রক্রিয়া, যার দ্বারা তালিকাভুক্ত একটি সংগঠন মার্কেটে এক্সট্রা শেয়ার ত্যাগ অর্থ তোলে। হিনডেনবার্গ অবশ্য প্রতিবেদনে বলেছে, ‘আমাদের প্রাপ্ত তথ্যের কথা বাদই দিই, আদানি গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারদর কমার পেছনে ৮৫ শতাংশ দায় তাদের আকাশচুম্বী মূল্যায়নের।’ তারা এইরকম বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড ও অন্যান্য দেশের ডেরিভেটিভ ইউজ করে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আদানি এন্টারপ্রাইজ ও গ্রুপটির অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে মরিশাসের একাধিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ভারতের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কোম্পানী আগেও প্রশ্ন তুলেছে। গত বছর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আদানি গ্রুপের টাকাকড়ি ফুলে–ফেঁপে উঠেছে। অথচ সেইম সাথে গ্রুপটির ঋণও বেড়েছে। তাদের সর্বমোট ঋণের সংখ্যা ২৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এটি গ্রুপটির প্রাক্-সমন্বিত আয়ের সাত গুণ। বিশ্লেষকেরা এই নিয়ে উদ্বেগও পাবলিশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে গৌতম আদানি গত ডিসেম্বরে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘অনেক বিশ্লেষক প্রকৃতপক্ষে আমার ব্যবসার ধারা বুঝতে পারেননি। তবে আমার ঋণদাতারা, ব্যাংক ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা তা বোঝেন। আদানি যখনই শেয়ারবাজারে আসে, তখনই তারা বিশেষ প্রবৃত্তি নিয়ে ইনভেস্ট করেন। সে কারণেই আমাদের এত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ