লিটন দাসের শিল্পীর তুলিতে অঙ্কন করে কার্যকর ইনিংস।

শেষ বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের হৃদয় ভগ্ন হার রোমাঞ্চের চোরাবালিতে বারবার ডুবলো ম্যাচ।

 চিত্রনাট্যে লিখনি হলো বৃষ্টিও। লিটন ভৃত্য দুর্দান্ত হলেন আরও একবার। মনে করিয়ে দিলেন তাকে নিয়ে করা ইয়ান বিশপের ‘মোনালিসা আঁকা’ ধারাভাষ্য। তার এনে দেওয়া মোমেন্টাম কাজে লাগাতে পারলেন না পরবর্তী ব্যাটাররা। 

আরও পড়ুন 

  1. বৃষ্টির পর লিটন দ্রুত ফিরতেই প্রবৃত্তি হারালো বাংলাদেশ। আরও একবার হতে হতেও হলো না বাংলাদেশের ভারতকে হারানো। কিন্তু ম্যাচের পর আলোকিত হয়ে থাকল তাসকিন আহমেদের গতি, হাসান মাহমুদের ঘুরে দাঁড়ানো, লিটন দাসের শিল্পীর তুলিতে অঙ্কন করে কার্যকর ইনিংস। সমাপ্ত অবধি ফলে অবশ্য লিখনি থাকবে না- বাংলাদেশের হারটা ছিল হৃদয় ভাঙা। বুধবার অ্যাডিলেইড ওভালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের ম্যাচে ইন্ডিয়ার কাছে ৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের সংগ্রহ পায় রোহিত শর্মার দল। মাঝে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকায় ১৬ ওভারে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৫১ রান। তবুও ১৪৫ রানের বহু করতে পারেনি টাইগাররা। বোলিংয়ে নেমে শুরুতে তাসকিনের হাতে বল তুলে দেন সাকিব। ব্যাক অব লেন্থের পাতলা বাউন্স পাওয়া বলা হয়ে থাকে ইনিংসের শুরু করেছিলেন তাসকিন। ১ম ওভারজুড়েই উনি করেছেন দারুণ বোলিং, দিয়েছেন কেবলমাত্র এক রান। এটুকু বললে কমই বলা হয় বোধ হয়। তাসকিন আদতে অসাধারণ ছিলেন তার একটানা স্পেলজুড়ে। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়েছেন, উইকেট অবশ্য পাননি। সেটা তিনি পেতে পারতেন নিজের ২য় ওভারের তৃতীয় বলেই। তাসকিনের বলা হয়ে থাকে ফ্লিক করতে গিয়ে রোহিত শর্মা সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান মাহমুদের হাতে। বাংলায় ‘লোপ্পা’ ক্যাচ ছেড়ে দেন তিনি। পুরো ইনিংসজুড়েই ক্যাচ ছাড়ার মিছিলে নেমেছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। মোস্তাফিজুর রহমান-সাকিব আল হাসান হাফ সুযোগ মিস করেছেন, কক্ষনো আবার নুরুল হাসান সোহান ক্যাচ ছেড়েছেন উইকেটের পেছনে। পরের ওভারে এসেই অবশ্য প্রায়শ্চিত্তও করে ফেলেছেন হাসান। তাকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন ক্যাপ্টেন সাকিব। আপার কাট করতে গিয়ে ইয়াসির আলির হাতে ক্যাচ দেন রোহিত। ৮ বলা হয়ে থাকে ২ রান করে ফেরেন তিনি। এই চাপ বাংলাদেশের বোলাররা ধরে রাখেন পাওয়ার-প্লের পুরোটাজুড়ে। ৬ ওভারে শুধুমাত্র ৩৭ রান তুলতে পারে ভারত। অথচ ওই চাপ ৮ম ওভারে এসে সরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। নো বল, ওয়াইড, ছক্কা হজমে উনি এক ওভারেই দেন ২৪ রান। দলের সবচেয়ে খরুচে এই বোলার ৪ ওভারে ৫৭ রান দ্বারা থেকেছেন উইকেটশূন্য। সাকিব অবশ্য নিজেদের প্রতি চাপ আটকে দেন লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে। ৯ম ওভারের ২য় বলা হয়ে থাকে তাকে শর্ট ফাইন লেগের ওপর দ্বারা মারতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। ৩ চার এবং ৪ ছক্কায় ৩২ বলা হয়ে থাকে ৫০ রান করেন রাহুল। একপ্রান্তে আগলে রেখে এগিয়ে যান কোহলি। অন্যদিকে কিছুক্ষণ তাকে সঙ্গ দ্বারা অসাধারণ সব শট খেলছিলেন সূয্যি কুমার যাদবও। মাঝে দুই দফা জীবন পাওয়ার পর সাকিবের বলেই থামেন ১৬ বলা হয়ে থাকে ৩০ রান করে বোল্ড হয়ে। শেষ অবধি ক্রিজে থাকা কোহলি ৪৪ বল খেলে করেছেন ৬৪ রান। ৮ চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন এক ছক্কা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৪ ওভারে ৩৩ রান কর্তৃক ২ উইকেট পেয়েছেন সাকিবও। জবাব দেওয়ার জন্য নেমে বাংলাদেশ ১ম ওভারে রান করতে পারেনি তেমন, ভুবনেশ্বরের করা ওভারে আসে কেবলমাত্র দুই রান। ২য় ওভার থেকেই পাল্টা আক্রমণ চালু করেন লিটন। 


  1. টাইমিংয়ে প্রলুব্ধ করে অসাধারণ শট খেলেন তিনি। মাত্র ২১ বলা হয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। গড়েছেন এই ব্যাটার। ৩য় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন পাওয়ার-প্লেতে। অতীতের দুজন ছিলেন ২০১৪ সালে স্টিফেন মাইবার্গ এবং গত বিশ্বকাপে লোকেশ রাহুল। লিটনে ওজন করে ২য় ও ৩য় ওভার থেকে যথাক্রমে ১২ এবং ১৬ রান পায় বাংলাদেশ। রান তোলার এ গতি অব্যাহত থাকে বৃষ্টিতে ম্যাচ অফ হওয়ার প্রথমে অবধি। সপ্তম ওভারের এসে যখন খেলা-ধুলা বন্ধ হয় সেই সময় কোন উইকেট না হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে এগিয়ে ছিল ১৭ রানে। বৃষ্টির পর টার্গেট বদলে যায়। বাংলাদেশও হারায় ব্যাটিংয়ের ছন্দ। এর ভিতরে লিটনও হয়ে যান রান আউট। অশ্বিনের বলা হয় দুই রান নিতে গিয়ে লোকেশ রাহুলের সরাসরি থ্রোতে আউট হয়ে যান লিটন। সমাপ্ত হয়ে যায় ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলা হয়ে থাকে তার ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। শুরুর দিকে অতিমাত্রা স্থিরভাবে খেলা শান্ত খোলস ছেড়ে বেরিয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ট্রাই করেন। হাঁকান কতিপয় বাউন্ডারিও। কিন্তু মোহাম্মদ শামির বলে সূর্য কুমার যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৫ বলা হয়ে থাকে ২১ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। মাঝে কিছুটা আশা জুগিয়েছিলেন সাকিব। অশ্বিনের করা ওভারে দুই বাউন্ডারিও হাঁকিয়েছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও অর্শ্বদ্বীপ সিংয়ের বলা হয়ে থাকে আউট হন ১২ বলে ১৩ রান করে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক। মাঝে আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন ও ইয়াসির আলির কেউই দশা ধরতে পারেননি। শেষদিকে আবারও বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ছক্কা ও চারে উনি হার্দিকের ১৫তম ওভারে চার বল নেন ১১ রান। অথচ পরের দুই বলে কোন রান করতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। সম্পন্ন ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। প্রথম বলেই সোহানকে স্ট্রাইক দেন তাসকিন। পরবর্তী বলা হয়ে থাকে ছক্কা হাঁকিয়ে আশাও জাগান তিনি। সম্পন্ন দুই বলা হয় ১১ রান দরকার ছিল। সোহান বাউন্ডারি হাঁকান ৫ম বলে। শেষ বলে প্রয়োজন হয়ে যায় ৭ রান। অথচ সোহান এক রানের বেশি নিতে পারেননি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ