সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং টুইটার কত সালে তৈরি হয়।টুইটার আবিষ্কার করেন কে?


ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসে শহরে মার্চের শেষভাগে এক স্নিগ্ধ সন্ধ্যা। 

বিশ্বের সবচেয়ে ধনশালী ব্যক্তির জন্য এয়ারবিএনবি হতে ভাড়া নেয়া এক বাড়িতে তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করা হয়েছে একটি বৈঠক। 

এটি টুইটারের ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইলন মাস্ক সাম্প্রতিক কালে টুইটারের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়েছেন। বর্তমান কানাঘুষো চলছে, তিনি কোম্পানির বোর্ডেও যোগ দিতে চান। 
টুইটারের চেয়ারম্যান ব্রেট টেলর সভাস্থলে এসে যা দেখলেন, সেটা তিনি প্রত্যাশা করেননি। 

আরও পড়ুন 


 টুইটারের মালিকানা বদল নিয়ে চুক্তি একদিন এগুচ্ছে তো পরদিনই ভেঙ্গে পড়ছে- এ জাতীয় একটা অবস্থা। 
এপ্রিলের প্রথমে ইলন মাস্ককে বেশ খুশিই মনে হচ্ছিল টুইটারের পরিচালনা বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য পেরে। তিনি তীব্র ঘন টুইট করছিলেন কিভাবে এই সংস্থা আজকাল বদলে যাবে। 
কিন্তু ভেতরে ভেতরে আসলে প্রবলেম কেলাস বাঁধছিল। তার সঙ্গে টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরাগ আগরওয়ালের বৈঠকে কলহ স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। কিভাবে টুইটারের নানা ঝামেলার সমাধান করা যেতে পারে, সে প্রশ্ন দুজনের ভিতরে বেশ মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। ইলন মাস্ক বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। 
"পরাগের সঙ্গে কথা বলা হয় টুইটারের সমস্যার সমাধান মিলবে না", এরকম টেক্সট পাঠিয়ে নাকি তিনি মি. টেলরকে তার হতাশার কথা জানিয়েছিলেন। "আমাদের কঠোর অ্যারেঞ্জমেন্ট নিতে হবে।" 

পরাগ আগরওয়ালের সাথে ইলন মাস্কের মতের মিল হচ্ছিল না 
এরপর ইলন মাস্ক ১৪ এপ্রিল একটা ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন- উনি টুইটার একাই কিনে নিতে চান। 
এজন্য উনি ৪৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ চার হাজার ৪শ কোটি ডলার দাম কম করে বললেন, এই দামে হলে তিনি কিনবেন, নতুবা নয়। 
টুইটারের বোর্ড সাথে সাথেই এ দাম প্রত্যাখ্যান করলো। তারা এমন কয়েকটি ব্যবস্থাও নিল, যাতে করে ইলন মাস্ক টুইটার কিনতে না পারেন। 
কিন্তু তারপরেই অবশ্য টুইটারের বোর্ড তাদের মত বদলালো। তারা বললো, ইলন মাস্কের প্রস্তাবে তারা রাজী। ২৫ এপ্রিল টুইটার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিল। 
ইলন মাস্ক টুইটার নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, এটি আসলে উপায় হারিয়ে ফেলেছে। উনি বলেছিলেন, টুইটার খুব বেশীমাত্রায় মত প্রকাশের অধিকার সীমিত করছে এবং, জগতের 'টাউন হল' হিসেবে এটিকে মত প্রকাশের অধিকারকে সবচেয়ে অধিক দিতে হবে। 
কানাডার ভ্যাংকুভারের ১টি বাণিজ্য সম্মেলনে উনি বললেন, তিনি এ কোম্পানির অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নন। 
তবে ইলন মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণা দেয়ার পরের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে শেয়ার মার্কেটপ্লেসে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য পড়ে যাচ্ছিল। কোম্পানী হিসেবে টুইটারের দামও তখন কমতে থাকে। তখন অনেক বিশ্লেষকই প্রশ্ন তুলতে চালু করেন, মি. মাস্ক টুইটারের জন্য বেশি দর দিয়ে ফেলেছেন কিনা। 
তবে মিস্টার মাস্ক প্রকাশ্যে ভিন্ন কিছু প্রশ্ন তুলছিলেন- তার একটা হচ্ছে, টুইটারে মূল ইউজার একাউন্টের সংখ্যা কত? 
ফোর্বস ও ব্লুমবার্গ বিশ্বের সর্বসেরা ধনীদের যে তালিকা করেছে, ইলন মাস্ক আছেন তার শীর্ষে। তার সম্পদের পরিমাণ নাকি ২৫০ বিলিয়ন, অর্থাৎ দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ইলন মাস্ক অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে যাচ্ছিলেন যে, টুইটারে বট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি করা ভুয়া একাউন্টের পরিমান অনেক বেশি। 
☝☝
ইলন মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণা দেয়ার পরও কয়েকবার চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। 
টুইটার কেনার জন্য তার দেয়া প্রস্তাব যখন প্রাপ্ত হলো, সেই সময় উনি বার বার জানতে চাইছিলেন, টুইটারের সত্যিকারের ব্যবহারকারীর পরিমান প্রকৃতপক্ষে কতো। 
টুইটারের নির্বাহীরা তখন জানিয়েছিলেন, প্রতিদিনের সক্রিয় ব্যবহারকারীদের ভিতরে ৫ শতাংশেরও কম আসলে 'বট' বা স্বয়ংক্রিয় মানব নির্মিত ব্যবহারকারী। কিন্তু এ পরিসংখ্যান শুনে ক্ষেপে গিয়েছিলেন ইলন মাস্ক। 
বট একাউন্টের এই সংখ্যাটা কেমন করে তারা হিসেব করে বের করেছেন, তা নিয়ে টুইটারের সেরা নির্বাহী অফিসার মিস্টার আগরওয়াল ১টি লম্বা পোস্ট দিয়েছিলেন। মিস্টার মাস্ক সেই পোস্টের জবাব দেন 'পুপ', অর্থাৎ মলের ইমোজি পোস্ট করে। 
টুইটারের সঙ্গে ইলন মাস্কের চুক্তি তখন ধসে পড়ার উপক্রম। এরপর ৮ জুলাই উনি ঘোষণা দিলেন, তিনি এ চুক্তি হতে বেরিয়ে যেতে চান। 
ইলন মাস্ক আরও ছাড় দামে টুইটার কিনতে দরকষাকষি করতে চাইছিলেন নাকি আসলেই এই চুক্তি হতে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন, সেটি জানানো মুশকিল। 
তবে টুইটার এসব কথা মানতে চাইছিল না। তারা যুক্তি দিচ্ছিল যে, টুইটার কেনার জন্য যে চুক্তি ইলন মাস্ক করেছেন, সেই চুক্তি মানতে উনি আইনগত-ভাবে আয়ত্ত এবং এখান হতে বেরিয়ে যাওয়ার কোন চান্স নেই। 
  • দুই পক্ষই তারপর নামী-দামী আইনজীবীদের নিয়োগ করেন, এবং ১৭ অক্টোবরে ডেলাওয়ারে এক আইনজীবী মামলার শুনানির তারিখ সিলেক্ট করা হয়, যেখানে মি, মাস্ককে চুক্তি মেনে কোম্পানিটি কিনতে বশীভূত করা হবে। 
  • আদালতে দাখিল করা কাগজপত্রে টুইটার বলেছিল, এই প্লাটফর্মের যথাৰ্থ ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে যথেষ্ট ইনফরমেশন তারা ইলন মাস্ককে দিয়েছে। 
কিন্তু মি. মাস্ক বলেছিলেন, বট একাউন্টের পরিমান সম্পর্কে টুইটার সামনে যে দাবি করে, আসল সংখ্যা হয়তো তার কয়েকগুণ। তিনি এমনকি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে প্রতারণার নালিশ পর্যন্ত এনেছিলেন।
প্রকাশ্যে কোম্পানির এ জাতীয় ক্লান্তিহীন সমালোচনা টুইটারের বেশ ক্ষতি করছিল। টুইটারের বেশিরভাগ আসে এডস থেকে। বিজ্ঞাপনদাতারা ভাবছিলেন, তাদের বিজ্ঞাপন প্রকৃতপক্ষে ঠিক কতসংখ্যাক মানুষের কাছে পোঁছাচ্ছে। 
টুইটার সদর দফতরেও এসব চাপ কাজ-কর্মে বেশ ব্যাঘাত তৈরি করছিল। টুইটারের কিছু কর্মী বেশ চাইছিলেন ইলন মাস্ক যেন তাদের ইন্সটিটিউটের অতুলনীয় নির্বাহী হয়ে আসেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ