গতবারের টি-২০ বিশ্বকাপের সময় থেকেই বড় টুর্নামেন্টে বেশ ভালো কর্মদক্ষতা করতে পারছে না ভারতীয় দল। সে কথা কার্যত সাম্প্রতিককালে মেনেও নিয়েছেন বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপের পরে সদ্য সমাপ্ত হওয়া এশিয়া কাপের সুপার ফোর হতে ছিটকে গিয়েছিল ভারতীয় দল। কিন্তু জ্যেষ্ঠ টুর্নামেন্টে সাফল্য না এলেও ইন্টারন্যাশনাল আঙিনায় তবুও জাতীয় দল বেশ দাপটের সাথেই খেলছে। এক ক্যালেন্ডার বর্ষে ম্যাক্সিমাম ইন্টারন্যাশনাল টি-২০ ম্যাচ জেতার ব্যাপারে নজির গড়ে টিম হিসেবে ফর্মে থাকার প্রমাণ দিল রোহিত বাহিনী। পাশাপাশি তারা ছোঁয়া করে ফেলল পাকিস্তানের গড়া নজিরকেও।
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে এক ক্যালেন্ডার বর্ষে ২০টি ম্যাচ বিজয় লাভ করে ম্যাক্সিমাম আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ জেতার দৃষ্টান্ত গড়েছিল পাকিস্তান। এই যাত্রায় তিন বছর বাদে তাদের সেই নজিরকে টাচ করল রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। উল্লেখ্য রোহিতের ভারতের সম্মুখে হায়দরাবাদেই সুযোগ থাকতেছে পাকিস্তানকে টপকে এ দৃষ্টান্ত এককভাবে নিজেদের নামে করার। একসাথে সিরিজও জিতবে ভারতীয় দল। এরপরেও অবশ্য তাদের সামনে বেশ কিছু চান্স থাকছে। কামরার মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রয়েছে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। তারপরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়াতে টি-২০ বিশ্বকাপ।
আরও পড়ুন… ইন্ডিয়ার T20 বিশ্বকাপ বিজয়ের সম্ভাবনা কতটা? কোনও রাখঢাক না করে জানিয়ে দিলেন কালিস
শুক্রবার নাগপুরে বৃষ্টির কারণে স্যাঁতসেঁতে ছিল আউটফিল্ড। ফলে খেলা-ধুলা আরম্ভ হতে লেট হয়। সমাপ্ত পর্যন্ত ৮ ওভারের ম্যাচ করার ডিসিশন নেওয়া হয়। যেটার ভিতরে থাকে ২ টি পাওয়ার প্লের ওভার। প্রত্যেক বোলারকে সর্বোচ্চ ২ ওভার করেই করানোর সুনির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। এদিন রোহিত টসে জয়ী হয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। ইন্ডিয়ার হয়ে এদিন বোলিং ওপেন করেন হার্দিক পান্ডিয়া। দলে দীর্ঘদিন বাদে প্রত্যাবর্তন হয় পেসার জসপ্রীত বুমরাহর। অজি অধিনায়ক তথা ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ করেন ৩১ রান। পরের দিকে ২০ বলা হয়ে থাকে ৪৩ রানের অপরাজিত ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ম্যাথু ওয়েড। অজি দল নির্ধারিত ৮ ওভারে করে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ৯০ রান। ইন্ডিয়ার হয়ে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট পান।
রান তাড়া করতে নেমে ইন্ডিয়ার ইনিংসকে দিশা দেখান অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এদিন ব্যাট হাতেও সামনে হতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ইন্ডিয়ার অপর ওপেনার রাহুল মাত্র ১০ রানে আউট হন। তিনে ব্যাট করতে নামা বিরাটও ১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ২০ বলা হয় ৪৬ রানের অপরাজিত একটি অনবদ্য ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ৪টি চার মারার একসাথে হাঁকান ৪টি বড় বড় ছয়ও। শেষ দিকে ফিনিশার দীনেশ কার্তিক ড্যানিয়েল স্যামসের ১ম বলা হয় ছয় ও দ্বিতীয় বলে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এই ম্যাচ জয়ের ফলে সমতায় ফিরল ভারত, সিরিজের স্কোর এখন ১-১। সিরিজের পরের তথা সমাপ্ত ম্যাচ খেলা-ধুলা হবে রবিবার হায়দরাবাদে।


0 মন্তব্যসমূহ